Wednesday, October 14, 2026

Share

তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠতা গায়ক কবীর সুমনের। পশ্চিমবঙ্গের জাদবপুর থেকে তৃণমুলের মনোনয়নে লোকসভা নির্বাচন করে সাংসদও হয়েছিলেন তিনি।

কিন্তু নির্বাচনে তৃণমূল বড় ব্যবধানে হেরে যাওয়ার পর তিনি বলেছেন, ‘আমি তৃণমূলের সদস্য নই, আমি তৃণমূলপন্থীও নই।’

আজতক বাংলাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমায় মমতা প্রায় হাতেপায়ে ধরে দাঁড় করিয়েছিলেন। তার আগে আমি কোনও পার্টির সদস্যও ছিলাম না।’

নির্বাচনের ফল নিয়ে প্রতিক্রিয়ায় সুমন বলেন, ‘আমি রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ নই, আমি সংগীতের লোক। যেভাবে ভোটটা হল, হঠাৎ সামরিক বাহিনী ঢুকল… ট্যাঙ্ক ঢুকবে, সাঁজোয়া গাড়ি—এটা দুঃস্বপ্নেও ভাবিনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই ভোট নিয়ে মন্তব্য কীভাবে করব? এটা কী ভোট হল? এখন একটা কথা চালু হয়েছে, জনাদেশ। তাহলে এটা জনাদেশ হল। তবে জনাদেশ কেন মমতার বিপক্ষে গেল, সেটা বলতে পারব না।’

তৃণমূলের শাসন নিয়ে সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সব কাজ ঠিক করেছেন? উত্তর না। তিনি পারেননি।’

তার ভাষ্য, ‘আমি এবারও তৃণমূলকে ভোট দিয়েছি ঠিকই, কিন্তু আমি তৃণমূলের কাজে খুশি হতে পারিনি। দলের বহু কথা ও আচরণে মানুষ ধাক্কা খেয়েছে।’

একইসঙ্গে রাজনৈতিক ভাষার অবনতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।

সুমন বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে সমালোচনা করা যায়, কিন্তু তাঁকে চটিপিসি বলা, তাঁর সমর্থকদের চটিচাটা বলা—এগুলো কী! আমরা দীর্ঘদিন ধরে অপসংস্কৃতির চর্চা করেছি।’

ধর্মীয় ও সামাজিক বিভাজন নিয়েও মন্তব্য করেন এই গায়ক। তিনি বলেন, ‘আমাদের সমাজে হিন্দু, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ আছেন… কিন্তু এখনও অনেকেই মুসলমানদের আলাদা করে দেখেন।’

এদিকে, সুমনের এই অবস্থান বদল নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন তৃণমূলের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এই শিল্পীর বক্তব্যে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন অনেকেই।

Read more

Local News