Wednesday, September 30, 2026

চট্টগ্রামে অস্ত্রের মুখে ৩৫০ ভরির ৩৫ স্বর্ণেরবার ছিনতাই

Share

চট্টগ্রাম নগরীর আতুরার ডিপো এলাকায় অস্ত্রের মুখে ৩৫০ ভরির ৩৫টি স্বর্ণেরবার ছিনতাইয়ের অভিযোগে অজ্ঞাত চার ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

আজ সোমবার রাতে পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল করিম দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, সবুজ দেবনাথ নামে ব্যক্তি বাদী হয়ে মামলাটি করেছেন। মামলায় তিনি চারজনকে আসামি করেছেন।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, রোববার ভোররাত সাড়ে ৫টার দিকে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। তারা তিনজন সিএনজিচালিত অটোরিকশায় স্বর্ণেরবার নিয়ে যাচ্ছিলেন।

ওসি বলেন, ‘চারজন দুর্বৃত্ত মোটরসাইকেলে এসে অটোরিকশার গতিরোধ করে ছিনতাই করে—এমন অভিযোগ আমরা পেয়েছি। বিষয়টি যাচাই করছি। পুলিশের একাধিক দল তদন্ত শুরু করেছে।’

এত স্বর্ণ তাদের কাছে কীভাবে এলো এবং সেগুলোর বৈধ কাগজপত্র ছিল কি না—জানতে চাইলে ওসি বলেন, ‘বাদী উল্লেখ করেছেন, স্বর্ণগুলো কোতোয়ালী থানাধীন হাজারী গলির এক ব্যবসায়ীর এবং সেগুলো ঢাকায় নেওয়া হচ্ছিল। সব দিক বিবেচনা করে তদন্ত হচ্ছে।’

এজাহারে সবুজ উল্লেখ করেছেন, গত ২০ বছর ধরে তিনি হাজারী গলির মিয়া শপিং মার্কেটে ‘জয়রাম ট্রেডার্স’ নামে একটি দোকানে স্বর্ণকার হিসেবে কাজ করছেন। তিনি ও তার দুই সহকর্মী—বিভাস রায় ও পিন্টু ধর—জুতার (স্নিকার্স) ভেতরে লুকিয়ে স্বর্ণেরবারগুলো বহন করছিলেন। সবুজ ও পিন্টু প্রত্যেকে ১১টি করে এবং বিভাস ১৩টি স্বর্ণেরবার জুতার ভেতরে বহন করছিলেন।

কোতোয়ালী থানার ফুলকলি এলাকা থেকে সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী যাওয়ার জন্য তারা অটোরিকশায় উঠেছিলেন। অটোরিকশাটি আতুরার ডিপোর কাছে মধুবনে পৌঁছালে দুটি মোটরসাইকেলে আসা চারজন তাদের পথরোধ করে নিজেদের পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্য পরিচয় দেয় এবং পিস্তল ও ছুরি দেখিয়ে ৩৫০ ভরি স্বর্ণ ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।

হাজারী গলির জয়রাম ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী কৃষ্ণ কর্মকার। যোগাযোগ করা হলে মোবাইল ফোনে তিনি দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, স্বর্ণেরবারগুলো তার এবং তার দোকানের কর্মচারীরা সেগুলো বহন করছিল।

এর আগে ২০২৩ সালের ১৬ জুন কর্ণফুলী উপজেলার একটি পুলিশ চেকপোস্টে যাত্রীবাহী বাস থেকে ৯ দশমিক ৫ কেজি স্বর্ণ জব্দ করে পুলিশ। সে সময় দুই নারীসহ চারজনকে আটক করা হয়।

পুলিশ জানায়, স্বর্ণগুলো কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে চট্টগ্রামে নেওয়া হচ্ছিল। সে সময় দায়েরকৃত মামলার তদন্তে কৃষ্ণ কর্মকারের নাম উঠে এসেছিল।

আসামি টিপু ও নারায়ণ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে চট্টগ্রামের স্বর্ণ ব্যবসায়ী ও স্বর্ণালংকার বিক্রেতাদের সংগঠনের তৎকালীন সভাপতি বিধান ধর ও কৃষ্ণ কর্মকারের নাম উল্লেখ করেন।

পুলিশ ও ডিবির তদন্তে একাধিক নাম উঠে এলেও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) চূড়ান্ত প্রতিবেদনে জানায়, স্বর্ণ পাচার করা হয়নি। ফলে ২০২৪ সালে আদালত স্বর্ণ ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেন।

 

Read more

Local News