Wednesday, August 12, 2026

নিরাপত্তা নাকি নিয়ন্ত্রণ: নারী আবাসিক হলের রাজনীতি

Share

‘আমার বাড়ি খাগড়াছড়িতে। যখনই আমি ঢাকায় ফিরি, বাস আমাকে ভোর ৪টার দিকে নামিয়ে দেয়। কিন্তু আমাদের হলের গেট খোলে সকাল ৬টায়। এই দুই ঘণ্টা আমি কোথায় থাকব? আমি কী করব? যদি নিরাপত্তার নামে হলের গেট রাত ১০টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়, তাহলে কি এই মধ্যবর্তী সময়ে ছাত্রীদের কোনো নিরাপত্তাঝুঁকি থাকে না? এ কারণেই আমরা দাবি করছি, হলের গেট ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখতে হবে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নির্বাহী সদস্য হেমা চাকমার এই কথাগুলো বিশ্ববিদ্যালয়টির নারী নিরাপত্তা নীতির স্ববিরোধিতা প্রকাশ করে। যদি রাত ১০টার পর ক্যাম্পাস সত্যিই ছাত্রীদের জন্য অনিরাপদ হয়, তাহলে ভোর ৪টায় বাস থেকে নেমে হলগেট খোলার অপেক্ষায় থাকা একজন শিক্ষার্থীর নিরাপত্তার দায়িত্ব কার? যদি সেই সময়ে কোনো বাস্তব নিরাপত্তা না থাকে, তাহলে হল তালাবদ্ধ রাখার উদ্দেশ্য আসলে কী? এই নীতি কি সত্যিই নারীদের নিরাপত্তার জন্য, নাকি এর ভিত্তি এই ধারণায় যে, নারীদের নিজেদের ভালোর জন্যই নিয়ন্ত্রণ করতে হবে?

এই ধরনের অভিজ্ঞতা কেবল হেমার একার না। বেগম রোকেয়া হলের শিক্ষার্থী অদিতি রায়ও নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে বলেছেন, ‘গত শীতে আমরা একটি শিক্ষাসফর থেকে ফিরছিলাম। আমাদের বাস ক্যাম্পাসে পৌঁছায় রাত সাড়ে ৩টার দিকে। হলের গেট মাত্র কিছুক্ষণের জন্য খোলা হয়েছিল, তারপর আবার বন্ধ হয়ে যায়। আমি অসুস্থ থাকায় সময়মতো বাস থেকে নামতে পারিনি। আমি ও আরেকজন মেয়ে সকাল ৬টা পর্যন্ত হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় বাইরে অপেক্ষা করতে বাধ্য হই।’

আরেকজন শিক্ষার্থী বর্ণনা করেন, কীভাবে তার এক বান্ধবী শিক্ষাসফর থেকে ফিরে অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারানোর পরও তার স্থানীয় অভিভাবক উপস্থিত না থাকায় প্রাথমিকভাবে তাকে হলে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। এমনকি তাকে সিট বাতিলের হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। এসব ঘটনা প্রশাসনের বৈপরীত্য সামনে আনে। নিরাপত্তার নামে তৈরি নীতিগুলো প্রায়ই ছাত্রীদের আরও বেশি অনিরাপত্তার মুখে ঠেলে দেয়। তাদের রক্ষা করার বদলে এসব নীতি কার্যত তাদের একটি কারাগারে আটকে ফেলে।

২০২৬ সালেও নারীর নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা মূলত সহিংসতার উৎপত্তিস্থলের মুখোমুখি হওয়ার বদলে নারীর চলাফেরা নিয়ন্ত্রণ এবং জনপরিসরে মোরাল পুলিশিং করার চারপাশেই ঘুরপাক খায়।

এই স্ববিরোধিতা সম্প্রতি ডাকসুর একটি উদ্যোগে আরও স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত টিএসসিতে ‘ফিমেল জোন’ নামে পর্দাঘেরা একটি বসার জায়গা চালু করা হয়েছে। প্রথম দেখায় এটি পর্দাশীল নারীদের জন্য একটি ব্যবস্থা বলে মনে হতে পারে। কিন্তু প্রতীকের দিক থেকে চিন্তা করলে, এটি জনপরিসরে নারীর উপস্থিতি নিয়ন্ত্রণের এক পুরোনো ঐতিহ্যকেই আরও এগিয়ে নেয়। যে ঐতিহ্য ইতোমধ্যে হলের কারফিউ ও নারীর চলাফেরার ওপর নানা বিধিনিষেধে প্রতিফলিত।

এই উদ্যোগের সমালোচনা মানে এই নয় যে, যেসব ছাত্রী পর্দার আড়ালে বসতে চান তাদের সেই অধিকার অস্বীকার করা। ধর্মীয়, ব্যক্তিগত বা সাংস্কৃতিক কারণে যারা এই ব্যবস্থা বেছে নিতে চান, তাদের সেই স্বাধীনতা নিঃসন্দেহে থাকা উচিত। সমস্যা তখনই দেখা দেয়, যখন একটি নির্দিষ্ট সাংস্কৃতিক চর্চা সমগ্র নারীত্বের প্রতীক হয়ে দাঁড়ায়, আর অন্যদিকে হলের গেট ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার দাবি ‘স্লাটশেমিং’য়ের মুখোমুখি হয়।

এ কারণেই ‘ফিমেল জোন’ নামকরণটি বিশেষ মনোযোগ দাবি করে। ডাকসু একে ‘পর্দা জোন’ বলে ডাকেনি। তারা একে আখ্যা দিচ্ছে ‘ফিমেল জোন’। এই জায়গার প্রতীক হিসেবে যে কার্টুন বেছে নেওয়া হয়েছে, সেটিও হিজাব পরা এক নারীর প্রতীক। এভাবে একটি নির্দিষ্ট নারীত্বের রূপকে অন্তর্নিহিতভাবে ‘নারী’র প্রতিনিধিত্বকারী চিত্র হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হলো।

কিন্তু নারীত্ব সংজ্ঞায়িত করছে কে? ফরাসি দার্শনিক সিমোন দ্য বোভোয়ার বলেছিলেন, মানুষ নারী হয়ে জন্মায় না, নারী হয়ে ওঠে। নারীত্ব কোনো স্থির জৈবিক সত্ত্বা না। এটি সংস্কৃতি, প্রতিষ্ঠান ও ক্ষমতার সম্পর্কের মধ্য দিয়ে ক্রমাগত নির্মিত হওয়া একটি সামাজিক পরিচয়। যখন কোনো বিশ্ববিদ্যালয় একটি দৃশ্যমান সাংস্কৃতিক চিহ্নকে সব নারীর প্রতীক হিসেবে তুলে ধরে, তখন তা অজান্তেই নারীত্বের একটি নির্দিষ্ট রূপকে সবার সামনে সর্বজনীন মানদণ্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে। এটি প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে নারীদের কল্পনা করার পদ্ধতিকেই আকার দেয়। ভিন্ন ভিন্ন বিশ্বাস, পোশাক-রীতি, রাজনৈতিক অবস্থান ও জনজীবনে বিচরণের ভিন্ন ভিন্ন উপায় নিয়ে বৈচিত্র্যময় ব্যক্তি হিসেবে নারীদের উপস্থিতি ক্রমে সংকুচিত হয়ে যায়। তারা একটি একক, পূর্বনির্ধারিত সাংস্কৃতিক পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়ে। নারীত্বের অভ্যন্তরীণ বৈচিত্র্য ধীরে ধীরে ‘স্বাভাবিক’ নারী কেমন হবে তার একটিমাত্র চিত্রের আড়ালে হারিয়ে যায়।

সামাজিক মনোবিজ্ঞান এই প্রক্রিয়া বোঝার জন্য একটি কার্যকর ধারণা দেয় ‘ডিপারসোনালাইজেশন’। সেখানে বর্ণনা করা হয়, কীভাবে ব্যক্তিরা ধীরে ধীরে সমাজ কর্তৃক নির্ধারিত ‘স্বাভাবিক’ বা ‘উপযুক্ত’ বৈশিষ্ট্যগুলো নিজেদের গোষ্ঠীর জন্য আত্মস্থ করে নেয়। এই প্রত্যাশাগুলো যত স্বাভাবিক বলে গৃহীত হয়, সমষ্টির স্বাধীনতা সম্পর্কে সামগ্রিক ধারণা ততই সংকুচিত হতে থাকে। প্রচলিত রীতির বাইরের জীবনযাপনের ধরণগুলো আর সমান বৈধ বলে মনে হয় না। সেগুলো অস্বাভাবিক, অযৌক্তিক, এমনকি বাড়াবাড়ি বলে প্রতীয়মান হতে থাকে। এই যুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি ছাড়িয়েও বিস্তৃত। অনেক নারী পোশাক শ্রমিকের জন্য বোরকা কিংবা গায়ে জড়ানো বিশাল ওড়না এক ধরনের ‘সেফটি কিট’ হিসেবে কাজ করে, যা তাদের পিতৃতান্ত্রিক নিয়মকানুনকে খুব একটা চ্যালেঞ্জ না করেই উপার্জনের পথে চলতে দেয়। সমস্যা তখন হয়, যখন প্রতিষ্ঠানগুলো এটিকে নারীত্বের আদর্শ চিত্র হিসেবে গ্রহণ করতে শুরু করে।

একটি বিশ্ববিদ্যালয় কেবল সমাজের প্রতিফলন হিসেবে এক জায়গায় স্থির থাকতে পারে না। এটি সামাজিক নিয়মকানুন গঠনকারী একটি প্রতিষ্ঠানও বটে। একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় যখন কার্যকর যৌন নিপীড়নবিরোধী সেল বজায় রাখতেই ব্যর্থ হয়, তখন আলোচনার ব্যর্থতা আড়াল করতে নারীত্বের মানদণ্ডও নির্ধারণ করতে শুরু করে। কাকে নিরাপত্তা দিবে আর কাকে নিয়ন্ত্রণে রাখবে, কার কণ্ঠস্বর দমন করা হবে, সেই সিদ্ধান্ত তখন প্রতিষ্ঠানই নিতে থাকে। যার মাধ্যমে ‘আদারিং’ করার রাজনীতি শুরু হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ধরনের নীতিগুলো ‘প্রকৃত নারী’ হিসেবে কোনটা বিবেচিত হবে, তা ঠিক করে দিচ্ছে। এখানেই ‘পারফরম্যাটিভ অন্তর্ভুক্তি’র ধারণা প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে। প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায়ই ইনক্লুসিভিটির ভাষায় কথা বলে। এই ইনক্লুসিভিটির মধ্যে মাত্র সেই নারীরাই আমন্ত্রিত, যারা পিতৃতান্ত্রিক ক্ষমতা কাঠামোর নরম বিরোধিতা করে জোড়া-তালি দিয়ে তাকে টিকিয়ে রাখছে।

১৯৯০-এর দশক জুড়ে বাংলাদেশের জেলা শহরের অনেক রেস্তোরাঁ নারীদের জন্য ‘প্রাইভেট কেবিন’ বা পর্দাঘেরা আলাদা বসার জায়গার বিজ্ঞাপন দিত। এই ব্যবস্থাগুলো নিরাপত্তা, শালীনতা ও স্বাচ্ছন্দ্যের ভাষায় যুক্তিসঙ্গত করা হতো। কিন্তু এই যুক্তির আড়ালে ভিন্ন একটি ধারণা লুকিয়ে ছিল—জনপরিসরে নারীর দৃশ্যমান উপস্থিতি নিজেই একটি সমস্যা। জনপরিসরকে অনিরাপদ করে তোলা পরিস্থিতিগুলোর মুখোমুখি হওয়ার বদলে পিতৃতান্ত্রিক সমাজ নারীদের জনদৃষ্টি থেকে আড়াল করে নারীর জনপরিসর সংকোচন করে।

পাবলিক ও প্রাইভেট পরিসরে নারীর উপস্থিতি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে পিতৃতান্ত্রিক নিয়মকানুন এভাবেই নিজেদের পুনরুৎপাদন করে। ধীরে ধীরে নিপীড়নমূলক কাঠামো স্বাভাবিক হিসেবে ধরা দেওয়া শুরু করে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষ এসব চর্চাকে আর নিয়ন্ত্রণের কৌশল হিসেবে চিনতে পারে না। তারা এগুলোকে স্বাভাবিক, এমনকি প্রয়োজনীয় বলে মনে করতে শুরু করে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তার রাজনীতিও একইভাবে কাজ করে। ২০২৬ সালেও ছাত্রীদের রাত ১০টার মধ্যে হলে ফিরতে হয়। নারীদের জন্য গেস্ট পলিসি পুরুষদের তুলনায় অনেক বেশি কঠোর। অথচ যৌন হয়রানির ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা—তা শিক্ষক, সহপাঠী বা অনলাইন নিপীড়নের মাধ্যমেই হোক না কেন—এখনো অকার্যকর। প্রতিষ্ঠানগুলো নারীর চলাফেরা নিয়ন্ত্রণে যতটা শক্তি ব্যয় করে, নিপীড়নকারীদের মোকাবিলা বা জবাবদিহিতার প্রক্রিয়ায় ততটা করে না। নিরাপত্তার দায়ভার এখনো নারীর ওপরই বর্তায়, হয়রানি ও নিপীড়ন সহায়ক কাঠামোর ওপর থাকছে না।

এই স্ববিরোধিতা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে যখন আমরা দেখি, একি বিশ্ববিদ্যালয় পড়া ছেলে শিক্ষার্থীরা মলচত্বরে ১০টার পর সময় কাটায়, বন্ধুত্ব গড়ে তোলে, রাজনৈতিক আলোচনা ও নেটওয়ার্ক তৈরি করে; অথচ নারীদের রাত ১০টার মধ্যে হলে ফিরে যেতে হয়। একটি বিশ্ববিদ্যালয় সমান নাগরিকত্বের চর্চা করার দাবি করতে পারে না, যদি সে ক্যাম্পাস জীবনের প্রাণকেন্দ্র সেই সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিসরে নারীদের সমান প্রবেশাধিকার থেকে নিয়মতান্ত্রিকভাবে বঞ্চিত রাখে।

এই ব্যবস্থাকেই এখন অনেক ছাত্রী চ্যালেঞ্জ করছেন। কেউ কেউ হলে ফেরার সময়সীমা বাড়ানোর দাবি জানাচ্ছেন। আবার কেউ কেউ আরও মৌলিক দাবি তুলছেন—হলের গেট ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখতে হবে। একদল প্রায়ই এসব দাবিকে বাড়াবাড়ি বলে খারিজ করে দেন। কিন্তু এমন প্রতিক্রিয়া নিজেই পিতৃতান্ত্রিক সামাজিকীকরণের ফল, যেখানে বিধিনিষেধকে স্বাভাবিক ধরা হয়, অথচ স্বাধীনতার দাবিকে অযৌক্তিক মনে করা হয়।

সবচেয়ে বড় স্ববিরোধিতা হয়তো অন্য জায়গায় লুকিয়ে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় ছাত্রীদের হলের তালাবদ্ধ গেট ভেঙে আন্দোলনে যোগ দেওয়ার দৃশ্য সেই আন্দোলনের অন্যতম শক্তিশালী টার্নিং পয়েন্টে পরিণত হয়েছিল। সারা দেশে সেই দৃশ্যকে সাহস, প্রতিরোধ ও গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণের দৃশ্য হিসেবে উদযাপন করা হয়েছিল। তালাবদ্ধ গেট হয়ে উঠেছিল কর্তৃত্ববাদী নিয়ন্ত্রণের প্রতীক। সেই গেট ভাঙা হয়ে উঠেছিল রাজনৈতিক মুক্তির এক কঠোর প্রদর্শন।

তার কিছুদিন পরই রাতে সেই একই নারীদের হলে তালাবদ্ধ করে রাখা আবার ‘নিরাপত্তা’র ভাষায় যুক্তিসঙ্গত করা হচ্ছে। যদি ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধে নারীর রাজনৈতিক এজেন্সি এতোই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকে, তাহলে সাধারণ গণতান্ত্রিক জীবনে সেই এজেন্সি কেন সংকুচিত হয়ে ওঠে? রাজনৈতিক সংকটের মুহূর্ত পার হয়ে গেলে চলাফেরার স্বাধীনতা, সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা কিংবা ক্যাম্পাস জীবনে পূর্ণ অংশগ্রহণের অধিকার কেন শর্তসাপেক্ষ হয়ে যাবে? এই সমস্যা হলের নীতিমালা বা টিএসসির পর্দাঘেরা বসার জায়গার সীমা ছাড়িয়ে অনেক বিস্তৃত। এখানে আলোচনা আসলে পূর্ণ নাগরিকত্ব সম্পর্কেই।

গণতান্ত্রিক সমাজে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একটি বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। তাদের কাছে প্রত্যাশা কেবল ডিগ্রি দিয়ে বের করা না। এমন স্বাধীনচেতা নাগরিক গড়ে তোলা, যারা নিজে বিচার-বিবেচনা করতে, দায়িত্ব নিতে এবং জনজীবনে অংশ নিতে সক্ষম। বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ নতুন জ্ঞান উৎপাদন করার মধ্য দিয়ে পশ্চাৎপদতা ত্যাগ করে সমাজের অগ্রগামী অংশ প্রস্তুত করা। যে নীতিগুলো ধরে নেয় যে, নারীদের ক্রমাগত প্রাতিষ্ঠানিক তত্ত্বাবধান দরকার, সেগুলো এই মূল লক্ষ্যকেই দুর্বল করে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে। এগুলো অনিরাপদ পরিবেশ বদলানোর বদলে সেই পরিবেশে সবচেয়ে অরক্ষিত মানুষদের নিয়ন্ত্রণের দিকে মনোযোগ ঘুরিয়ে দেয়।

ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রামের সময় পিতৃতান্ত্রিক খাঁচা ভেঙে বেরিয়ে আসা নারীদের অনেকেই পিতৃতান্ত্রিক রাজনীতির কাছে ঘরের আলমারিতে রাখা সাজসজ্জার শোপিসের মতো। অতিথি এলে বের করা হয়, চলে গেলে আবার শোকেসে তুলে রাখা হয়। অনেকের কাছে এভাবে বস্তুরূপে টিকে থাকাটাই সম্মানের প্রতীক। যারা একে সম্মান মনে করেন না, তাদের জন্য সেই শৃঙ্খল ভাঙার সংগ্রাম এখনো চলছে।

 

নূজিয়া হাসিন রাশা: ছাত্র সংগঠক ও ফ্রিল্যান্স লেখক।

Read more

Local News