Monday, February 9, 2026

সুপারফুড শৈবাল: সমুদ্রের মাঝে কৃষিতে নতুন দিগন্ত

Share

আনোয়ারা বেগমের কাছে সমুদ্র একটি ক্যালেন্ডারের পাতার মতো। অন্যরা যেমন ক্যালেন্ডার দেখে সময় বুঝতে পারে, আনোয়ারাও তেমনি সমুদ্র দেখে বুঝতে পারেন, কখন কী ভেসে আসবে, কোথায় জমবে, আর কখন তা সংগ্রহ করতে হবে। বহু বছর ধরে অর্জিত এই অভিজ্ঞতাই তার জীবিকা নির্বাহে সাহায্য করেছে। তিনি সাগর পাড় থেকে ঝিনুক কুড়ান, আর সেগুলো বিক্রির অর্থে চলে তার জীবন।

প্রায় ১৫ বছর আগে কক্সবাজারের বার্মিজ মার্কেটে আনোয়ারা একটি নতুন জিনিস দেখতে পেলেন, সঙ্গে সঙ্গেই তিনি তা চিনতে পারলেন। পাতলা, কালো, চুলের মতো শৈবালের আঁশ বিক্রি করছিলেন রাখাইন ব্যবসায়ীরা। সেমাইয়ের মতো দেখতে এই শৈবাল আচার আর শুঁটকির পাশে রাখা ছিল। সেসময় অনেকের কাছেই এটি ছিল অপরিচিত এক উপকূলীয় খাবার।  

কিন্তু নুনিয়াছড়ার বাসিন্দা আনোয়ারার কাছে এটি পুরোপুরি নতুন কিছু ছিল না। কারণ তিনি বহুবার ভাটার সময়ে মহেশখালী চ্যানেলের পাথরের গায়ে এই শৈবাল আটকে থাকতে দেখেছেন। 

রাখাইন সম্প্রদায় সাধারণত এই শৈবাল দিয়ে স্যুপ, তরকারি ও আচার বানিয়ে থাকে, যা আসে মিয়ানমার থেকে। আনোয়ারার মনে হলো, এই একই সামুদ্রিক শৈবাল তো তার নিজের এলাকাতেই পাওয়া যায়।

সে সময়টিতে আনোয়ারা সাগরপাড় থেকে ঝিনুক সংগ্রহ করে বার্মিজ মার্কেটে বিক্রি করতেন। তখনও সামুদ্রিক এই শৈবালের ব্যবসা তিনি শুরু করেননি। শৈবালের চাহিদা দিনে দিনে বাড়তে থাকে, খরচ নেই বললেই চলে। আনোয়ারা কালো রঙের শৈবাল সংগ্রহ করে রাখাইন ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করা শুরু করেন। 

তখন আনোয়ারা বাড়তি উপার্জনের জন্য ঝিনুকের পাশাপাশি এই ব্যবসা শুরু করেছিলেন, পরবর্তীতে কয়েক বছরের মধ্যে তা হয়ে ওঠে তার মূল ব্যবসা।

দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মানুষেরা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে পুষ্টি ও ঔষধি গুণের জন্য সবজি ও সালাদ হিসেবে সামুদ্রিক শৈবাল খেয়ে আসছেন। তাই সামুদ্রিক শৈবাল সংগ্রহের এই চর্চা নতুন কিছু নয়। নতুন বিষয় হলো—এটিকে চাষের আওতায় এনে যেভাবে জীবিকার মাধ্যম করে গড়ে তোলা। 

 শৈবাল সংগ্রহ থেকে এক পর্যায়ে অপ্রত্যাশিতভাবেই শৈবাল চাষের যাত্রা শুরু করেন আনোয়ারা।  

সেসময় আনোয়ারা ও তার মতো আরও কয়েকজন উপকূলীয় নারীর কাছে বাণিজ্যিকভাবে সামুদ্রিক শৈবাল চাষের একটি প্রস্তাব নিয়ে গিয়েছিলেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) বিজ্ঞানী মোস্তাক আহমেদ। শুরুতে অনেকেই এই ধারণাটিকে সন্দেহের চোখে দেখেছিলেন।  

দ্য ডেইলি স্টারকে সেই সময়ের স্মৃতিচারণ করে আনোয়ারা বলেন, ‘এটি যে কীভাবে চাষ করতে হয় তা আমরা জানতাম না। আমরা শুধু জানতাম কীভাবে সংগ্রহ করতে হয়।’

কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট উপকূলীয় বাসিন্দাদের প্রশিক্ষণের জন্য চারা, বাঁশের খুঁটি, ১০ মিটার লম্বা দড়ি সরবরাহ করেন। তারা কৃষকদের কীভাবে পানির নিচে সামুদ্রিক শৈবাল রোপণ করতে হবে, কতদিন পানিতে রাখতে হয় এবং কবে তা কাটতে হবে এসব বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়। 

প্রথম দিকে দুই ধরনের শৈবালের প্রজাতি দিয়ে এই কার্যক্রম শুরু হয়। এর মধ্যে একটি গ্রেসিলারিয়া। যা দেখতে অনেকটা কালো চুলের মতো। অন্যটি আল্ভা। এটি অনেকটা সবুজাভ এবং লেটুসের মতো দেখতে। ভালো বাজার চাহিদার কারণে আল্ভা প্রজাতিটি জাপান থেকে নিয়ে আসা হয়। 

দ্রুতই কৃষকেরা এই শৈবাল চাষের বিষয়টি রপ্ত করে নেন। সেই সঙ্গে ঋতু অনুযায়ী কাজ করার বিষয়টিও শিখে যান। এরপর নভেম্বর থেকে পরবর্তী ৭ মাস সময়ে নুনিয়াছড়া সৈকতজুড়ে সামুদ্রিক শৈবালের চাষ শুরু হয়।

শীতকালে কম বৃষ্টিপাত হয় বলে সমুদ্রের পানিতে লবণাক্ততা ও পানির স্বচ্ছতা বাড়ে। যা শৈবালের বৃদ্ধির জন্য আদর্শ পরিবেশ তৈরি করে। এ সময় উপকূলজুড়ে প্রাকৃতিকভাবেও শৈবাল জন্মায় এবং তা চাষের বীজ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

বর্তমানে বারির কর্মসূচির আওতায় প্রায় ৫০০ জন কৃষক সামুদ্রিক শৈবাল চাষ করছেন। এছাড়া কক্সবাজার জেলায় জাপান আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (জাইকা) ও কয়েকটি বেসরকারি সংস্থার সহায়তায় আরও প্রায় ৫০০ জন কৃষক শৈবাল চাষে যুক্ত হয়েছেন।

কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সামুদ্রিক শৈবাল প্রধানত ‘লং লাইন’ ও ‘ভাসমান র‍্যাফট’ পদ্ধতিতে চাষ করা হয়।

লং লাইন পদ্ধতিতে, প্রতি ২০ সেন্টিমিটার পরপর একটি দড়িতে চারা বেঁধে তা ছোট খুঁটির সাহায্যে অগভীর পানিতে ভাসিয়ে রাখা হয়। অন্যদিকে র‍্যাফট পদ্ধতিতে বাঁশের ভেলায় দড়ি ঝুলিয়ে তাতে চারা লাগানো হয়। প্রথম ১৫ দিনের মধ্যেই প্রথমবার ফসল সংগ্রহ করা যায়। এরপর মাসে অন্তত দুবার ফসল তোলা সম্ভব।

আল্ভা প্রজাতির শৈবালের ওজন সর্বোচ্চ ৪০০ গ্রাম পর্যন্ত হতে পারে।

শৈবাল কাটার পর তা ধুয়ে পরিষ্কার করে সৈকতে শুকানো হয়। রোপণ ও কাটার কাজ ছাড়া এতে তেমন একটা শ্রম লাগে না।

আনোয়ারা এখন দুটি প্রজাতির শৈবালই চাষ করেন। পূর্ব অভিজ্ঞতার কারণে তিনি অনেক নতুন চাষির তুলনায় বেশি উৎপাদন করতে পারছেন।

কেবল স্থানীয় রাখাইন বাজারেই নয়, আনোয়ারা বান্দরবানের লামা ও আলীকদম এলাকার আদিবাসী জনগোষ্ঠীর কাছেও শৈবাল বিক্রি করেন। প্রতিবার শৈবাল বিক্রি করে তার ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা আয় হয়। 

শৈবাল চাষের সঙ্গে শুরু থেকেই যুক্ত ছিলেন মরিয়ম বেগম। দ্য ডেইলি স্টারকে তিনি বলেন, ‘আয়ের সম্ভাবনা দেখে দিন দিন শৈবাল চাষে মানুষের আগ্রহ বাড়ছে।’

শৈবাল চাষ জনপ্রিয় করতে বারির ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০১৬ সাল থেকে বারির বিজ্ঞানী মোস্তাক আহমেদ ও তার দল পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চালিয়ে প্রশিক্ষণ ও প্রদর্শনের মাধ্যমে শৈবাল চাষিদের মধ্যে ধীরে ধীরে আস্থা তৈরি করেছেন।

বারির গবেষণা সহকারী মাকসুদুল হক জানান, গত বছর তারা শৈবাল চাষীদের মধ্যে ১ হাজার দড়ি বিতরণ করেছিলেন এবং এ বছর তাদের ২ হাজার দড়ি বিতরণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিটি দড়ি থেকে মাসে প্রায় ২ কেজি পর্যন্ত আল্ভা প্রজাতির শৈবাল উৎপাদিত হবে।

বাড়তি আয়ের পাশাপাশি এই উদ্যোগটি বিশেষ করে নারী ও উপকূলীয় প্রান্তিক পরিবারগুলোর জন্য একটি টেকসই জীবিকাভিত্তিক মডেল তৈরি করেছে।

সামুদ্রিক শৈবাল চাষ এখন কক্সবাজারে স্থানীয় বাণিজ্য ও পারিবারিক আয়ে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে।

স্থানীয় বাজারে প্রতি কেজি তাজা কালো শৈবাল প্রায় ১০০ টাকায় বিক্রি হয়। শুকনো কালো শৈবাল বিক্রি হয় প্রায় ৩০০ টাকায়। সবচেয়ে বেশি চাহিদার শুকনো সবুজ শৈবাল প্রতি কেজি বিক্রি হয় প্রায় ১ হাজার টাকায়। 

শফি আলমের মতো কৃষকেরা এই শৈবাল লামা, আলীকদম ও বান্দরবান শহরের বাজারে সরবরাহ করেন। বাকিরা কক্সবাজারের হোটেলগুলোতে সরাসরি বিক্রি করেন। শৈবাল ব্যবসায় ভালো লাভ দেখতে পেয়ে ব্যবসায়ীরাও এতে যুক্ত হয়েছেন। ব্যবসায়ীরা কৃষকদের থেকে সরাসরি শৈবাল কিনে ঢাকা ও ময়মনসিংহের বাজারে সরবরাহ করছেন।

কক্সবাজারের মেসার্স আলমগীর স্টোরের স্বত্বাধিকারী মো. নোমান দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, গত বছর তিনি দেড় লাখ টাকার শুকনো সবুজ শৈবাল কিনেছেন। এ মৌসুমে আরও বেশি কেনার আশা করছেন।

নোমান কক্সবাজারের পাঁচ তারকা হোটেলগুলোতে শৈবাল সরবরাহ করে থাকেন। এছাড়া তিনি বিদেশ থেকেও বায়না পেয়ে থাকেন। অনেক সময় ব্যবসায়ীরাও কৃষকদের উৎপাদন বাড়াতে আর্থিকভাবে সহায়তা করে থাকেন, যাতে বাড়তি চাহিদা মেটাতে উৎপাদন বাড়ানো যায়।

ইতোমধ্যে হোটেলগুলোও তাদের খাবারের মেন্যুতে পরিবর্তন এনেছে। রামাদা বাই উইন্ডহ্যাম কক্সবাজার হোটেলের শেফ মোহাম্মদ মিল্টন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘স্থানীয়ভাবে শৈবালের নিয়মিত সরবরাহ থাকায় তারা সামুদ্রিক খাবারের পদে বৈচিত্র্য আনছেন। একইসঙ্গে তারা নতুন স্বাদ ও টেক্সচার নিয়েও পরীক্ষা করতে পারছেন।’

মিল্টনের মতে, সামুদ্রিক শৈবাল এখন একটি উচ্চমান সম্পন্ন খাদ্য উপাদানে পরিণত হয়েছে, যা পুষ্টিগুণ ও নতুনত্ব দুইভাবেই ভীষণ মূল্যবান।

সামুদ্রিক শৈবালের আগ্রহ ও চাহিদা দ্রুত বাড়লেও, এখনও পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে সরবরাহ করতে পারছেন না কৃষকরা। ফলে বড় ধরনের বায়না পূরণ করতে না পারায় কৃষকদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। ফলে শৈবালের যেমন দাম বাড়ছে তেমনি উৎপাদন বাড়ানোর ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক সম্ভাবনাও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। 

উপকূলীয় বহু পরিবারের কাছে এখন সামুদ্রিক শৈবাল ঐতিহ্যবাহী জীবিকাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে লাভজনক বিকল্প হিসেবে গড়ে উঠেছে।

স্থানীয় বাণিজ্যের বাইরেও, সামুদ্রিক শৈবাল বিশ্বজুড়ে একটি সুপারফুড ও গুরুত্বপূর্ণ শিল্প উপকরণ হিসেবে স্বীকৃত। এতে ভিটামিন বি, সি, ডি, ই ও কে ছাড়াও শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বিটা-ক্যারোটিন রয়েছে। এটি সরাসরি খাওয়া হয় এবং নানা পণ্য তৈরিতেও প্রক্রিয়াজাত করা হয়।

শৈবাল থেকে আহরণ করা আগার, ক্যারাজিনান ও সোডিয়াম অ্যালজিনেট আইসক্রিম, মেয়োনিজ, চকলেট, টুথপেস্ট, মলম, প্রসাধনী এমনকি রঙ তৈরিতেও ব্যবহৃত হয়। উপকূলীয় পরিবেশ উপযোগী হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশ এখনও প্রায় নিয়মিতই আগার পাউডার আমদানি করে।

গত দুই দশকে বিশ্বজুড়ে সামুদ্রিক শৈবালের উৎপাদন দ্রুত বেড়েছে।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) অনুযায়ী, ২০২১ সালে বিশ্বজুড়ে মোট সামুদ্রিক শৈবাল উৎপাদন ৩৬ দশমিক ৩ মিলিয়ন টনে পৌঁছেছিল। যা ২০০১ সালের তুলনায় প্রায় ৩ গুণ।

এফএও’র ‘সামুদ্রিক শৈবালের বাণিজ্য ও বাজার সম্ভাবনা’ শীর্ষক এক রিপোর্টের তথ্যানুযায়ী, সরবরাহকৃত শৈবালের মধ্যে প্রায় ৯৭ শতাংশ অ্যাকুয়াকালচার বা জলজ পদ্ধতিতে চাষ হয়। বৈশ্বিক উৎপাদনের প্রায় ৬০ শতাংশ সরবরাহ আসে চীন থেকে। এরপর ইন্দোনেশিয়া সরবরাহ করে ২৫ শতাংশ। দক্ষিণ কোরিয়া ও ফিলিপাইন যৌথভাবে সরবরাহ করে প্রায় ৯ শতাংশ।

প্রাকৃতিকভাবে সংগৃহীত শৈবালের বার্ষিক উৎপাদন ৯ লাখ টন এর কাছাকাছি। ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বৈশ্বিক রপ্তানি ছিল ৮ লাখ ১৯ হাজার টন। যার বাজার মূল্য ৩২০ কোটি ডলার। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেকই ছিল ক্যারাজিনান। আর ভোজ্য শৈবাল ছিল মোট বাণিজ্যের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।

ভোজ্য শৈবালের বাণিজ্য প্রধানত পূর্ব এশিয়া কেন্দ্রিক। আর শিল্পকার্যে ব্যবহৃত শুকনো শৈবালের বড় অংশ সরবরাহ করে উন্নয়নশীল দেশগুলো।

বাংলাদেশে সেন্ট মার্টিন দ্বীপ, ইনানী সৈকত ও কক্সবাজার উপকূলের কিছু অংশে প্রাকৃতিকভাবে সামুদ্রিক শৈবাল জন্মায়। ৭১০ কিলোমিটার দীর্ঘ উপকূলরেখা ও ১ লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গকিলোমিটার বিস্তৃত সামুদ্রিক সীমানা নিয়ে বাংলাদেশ এমন এক সম্পদের অধিকারী, যা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে পারলে এটি উপকূলীয় অর্থনীতিকে আমূলভাবে বদলে দিতে পারে।

উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর বাসিন্দারা সামুদ্রিক শৈবাল চাষে জড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে উদ্যোক্তারাও এতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

পরিবেশগত টেকসই উন্নয়ন ও সামাজিক দায়বদ্ধতা প্রসারে কাজ করা অলাভজনক সংস্থা গ্রীনটেক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক লুৎফর রহমান সম্প্রতি শৈবালের উৎপাদন সক্ষমতা মূল্যায়নের জন্য নুনিয়াছড়া পরিদর্শন করেন।

দ্য ডেইলি স্টারকে তিনি বলেন, ‘অধিকাংশ ফসলের তুলনায় সামুদ্রিক শৈবাল চাষে লাভ অনেক বেশি। শিল্পখাতে বিনিয়োগ এলে ছোট খামারগুলোকে বড় পরিসরে রূপ দেওয়া সম্ভব হবে। এতে ব্লু ইকোনমিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ খাতে সীমাবদ্ধতাগুলো বাস্তবভিত্তিক। বীজের সরবরাহ এখনও অপ্রতুল, আর উৎপাদন বাড়াতে যা কিছু প্রয়োজন যেমন পর্যাপ্তভাবে শুকানো, সংরক্ষণ ও পরিবহন; এসব সুবিধা কৃষকদের কাছে নেই।’

আনোয়ারা এখনও একই উপকূলীয় এলাকায় কাজ করেন। সমুদ্রই ঠিক করে দেয় তিনি কখন শৈবাল রোপণ করবেন, আর কখন ফসল তুলবেন। তবে তার আয়ের দিন বদলেছে। আগে যেখানে ঝিনুক সংগ্রহ করে তার অনিশ্চিত দৈনিক আয় হতো, সেখানে এখন তিনি মৌসুমে নিয়মিত ও নিশ্চিত আয়ের মুখ দেখছেন।

অপার সম্ভাবনাময় এ শৈবাল চাষকে শিল্পে রূপ দেওয়া গেলে, দিন ফিরবে আনোয়ারার মতো আরও অনেক উপকূলীয় চাষীর।

Read more

Local News