Wednesday, February 25, 2026

রংপুরে মুক্তিযোদ্ধা ও তার স্ত্রীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার

Share

রংপুরের তারাগঞ্জে নিজ বাড়ি থেকে এক মুক্তিযোদ্ধা ও তার স্ত্রীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতরা হলেন—মুক্তিযোদ্ধা যোগেশ চন্দ্র রায় (৭৫) এবং সুর্বণা রায় (৬৫)।

গত রাতে কোনো একসময় উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের উত্তর রহিমাপুর গ্রামের ওই বাড়িতে হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে বলে ধারণা করছে পুলিশ।

স্থানীয়রা জানায়, আজ রোববার সকালে ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছিল না। বাড়ির প্রধান দরজা ভেতর থেকে তালাবদ্ধ ছিল।

পরে প্রতিবেশীরা মই বেয়ে বাড়ির ভেতরে ঢুকে প্রথমে ডাইনিং রুমে যোগেশ চন্দ্র রায় এবং রান্নাঘরে তার স্ত্রী সুর্বণা রায়ের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। এরপর পুলিশে খবর দেওয়া হলে তারাগঞ্জ থানা পুলিশ আসে।

বাড়ির দীর্ঘদিনের কর্মচারী দীপক চন্দ্র রায় জানান, তাদের পরিবার প্রায় ৪০ বছর ধরে বাড়িটির দেখাশোনা করে আসছে। প্রতিদিনের মতো তিনি সকালে কাজ করতে গেলে ঘরের ভেতর কোনো নড়াচড়া না দেখে সন্দেহ হয়।

তিনি বলেন, ‘ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে আশপাশের লোকজনকে ডাকি। পরে মই বেয়ে ভেতরে গিয়ে দেখি ঘর ফাঁকা। ডাইনিং রুমের দরজা খুলতেই দাদুর রক্তাক্ত লাশ দেখি। রান্নাঘরে দিদার লাশ পড়ে ছিল।’

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মুক্তিযোদ্ধা যোগেশ চন্দ্র রায় পেশায় শিক্ষক ছিলেন। তিনি ২০১৭ সালে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদ থেকে অবসর নেন। তার বড় ছেলে শোভন চন্দ্র রায় কর্মসূত্রে জয়পুরহাটে এবং ছোট ছেলে রাজেশ চন্দ্র রায় ঢাকায় পুলিশ বিভাগে চাকরি করেন। গ্রামের বাড়িতে স্বামী-স্ত্রী দুজনই থাকতেন।

তারাগঞ্জ থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) ফাইয়ুম তালুকদার বলেন, দুজনের মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি। কে বা কারা হত্যা করেছে, তা উদঘাটনে পুলিশ ও গোয়েন্দা ইউনিট একযোগে কাজ শুরু করেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ঘটনার খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোনাব্বর হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আলী হোসেনসহ প্রশাসন ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

ইউএনও মোনাব্বর হোসেন জানান, রহস্য উদঘাটনে পুলিশকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

Read more

Local News