Friday, March 20, 2026

আন্দোলন ‘নিয়ন্ত্রণে’, শিগগির ইন্টারনেট চালু: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

Share

দেশজুড়ে চলমান বিক্ষোভের মধ্যে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি দাবি করেছেন, দেশের পরিস্থিতি এখন ‘সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে’ রয়েছে।

আজ সোমবার তেহরানে বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকে এসব কথা বলেন আরাঘচি। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকার দাবির পক্ষে তিনি কোনো নির্দিষ্ট তথ্য বা প্রমাণ উপস্থাপন করেননি বলে জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান।

তেহরানে ব্যবসায়ীদের মূল্যস্ফীতির প্রতিবাদে শুরু হওয়া এ আন্দোলন ১৬তম দিনে গড়িয়েছে। একপর্যায়ে এ বিক্ষোভ শাসনব্যবস্থার পতনের দাবিতে রূপ নেয়। এর জবাবে ইরান সরকারও কঠোর দমন অভিযান শুরু করে।

গার্ডিয়ান জানিয়েছে, ইরান ২০০৯ ও ২০১৯ সালেও বল প্রয়োগের মাধ্যমে বড় ধরনের গণঅস্থিরতা দমন করেছে।

গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইন্টারনেট বন্ধ থাকলেও ইরান থেকে আসা সীমিত ভিডিও ও বার্তায় বিভিন্ন এলাকায় প্রতিবাদ চলমান থাকার ইঙ্গিত মিলছে। গত বৃহস্পতিবার থেকে দেশজুড়ে ইন্টারনেট সেবা ব্যাপকভাবে বন্ধ রয়েছে।

এদিকে আল জাজিরা জানিয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে বন্ধ থাকা ইন্টারনেট সেবা চালু করা হবে বলেও জানিয়েছেন আরাঘচি।

আরাঘচি অভিযোগ করেন, পশ্চিমা শক্তিগুলো সামরিক হস্তক্ষেপের ‘অজুহাত তৈরির’ জন্য শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকে সহিংস করে তুলছে। ইরান কর্তৃপক্ষ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্দোলনে উসকানি দেওয়ার অভিযোগও এনেছে বলে জানিয়েছে গার্ডিয়ান।

আল জাজিরা জানিয়েছে, সোমবার রাজধানী তেহরানের এঙ্গেলাব স্কয়ারে দশ হাজারের বেশি সরকারপন্থী সমর্থক সমাবেশ করে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত ওই সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা সরকারবিরোধী আন্দোলন এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন।

ইন্টারনেট বন্ধের প্রভাব নিয়ে আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক পর্যবেক্ষক সংস্থা নেটব্লকসের গবেষণা পরিচালক ইসিক মাটার বলেন, ইরান সরকার তাদের ‘ডিজিটাল কিল সুইচ’ কার্যকরভাবে ব্যবহার করেছে। এতে ২০১৯ সালের তুলনায় আরও দ্রুত ও কঠোরভাবে দমন অভিযান চালানো সম্ভব হয়েছে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, এই ব্ল্যাকআউটের ফলে স্বচ্ছতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং প্রকৃত প্রাণহানির সংখ্যা আড়াল থেকে যাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সির তথ্যমতে, ইরানে সহিংসতায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৫৩৮ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৪৯০ জনই বিক্ষোভকারী। সংস্থাটি জানিয়েছে, ১০ হাজার ৬০০ জনের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে। একইসঙ্গে বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুর খবরের প্রেক্ষাপটে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে শক্তিশালী সামরিক বিকল্প বিবেচনার কথাও বলেছেন।

ট্রাম্পের বক্তব্যের জবাবে ইরান সরকার জানিয়েছে, তারা যুদ্ধ চায় না, তবে যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত।

Read more

Local News