Sunday, February 15, 2026

কানাডায় যেমন আছেন কুমার বিশ্বজিৎ

Share

‘তোরে পুতুলের মতো করে সাজিয়ে, হৃদয়ের কোঠরে রাখব’— গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছিলেন বাংলাদেশের সংগীত জগতের অতি পরিচিত একটি নাম, কুমার বিশ্বজিৎ। এদেশের বাংলা গানকে বিশ্বের অনেক দেশে পৌঁছে দিয়েছেন তিনি।

তার অনেক গান মানুষের মুখে মুখে ফেরে। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ অনেক সম্মাননা পেয়েছেন। বর্তমানে আছেন কানাডায়। সেখানে তার ছেলে নিবিড়ের চিকিৎসা চলছে।

কানাডার জীবন, ছেলে নিবিড়, গান—সবকিছু নিয়ে কুমার বিশ্বজিৎ কথা বলেছেন দ্য ডেইলি স্টারের সাথে।

 নিবিড় এখন কেমন আছে?

কুমার বিশ্বজিৎ: আছে। নিবিড় রিহ্যাবে আছে। আমাকে দেখে হাসে। খুশি হয়। কিছুটা উচ্ছ্বাস দেখতে পাই যখন দেখা হয়। আবার যখন চলে আসি, মন খারাপ করে। চোখ ভিজে আসে ওর। এভাবেই চলছে। তবে, মানুষের এত ভালোবাসা পাবো ভাবিনি। মনে হয়েছিল কী এমন করেছি যার জন্য মানুষ আমাকে মনে রাখবে কিংবা ভালোবাসবে।

কিন্তু, নিবিড়ের ঘটনার পর মানুষ দেখিয়ে দিয়েছেন কতটা ভালোবাসেন আমাকে, নিবিড়কে। সত্যি কথা বলতে, মানুষের এই সম্মান ও ভালোবাসা যেন ধরে রাখতে পারি।

নিবিড় একটা রিহ্যাবে আছে। একটু আগেও বলেছি। ওখানে ফিজিওথেরাপি চলছে। আরও অনেক কিছু করতে হয়। ছেলের সাথেই কানাডায় বড় একটা সময় কেটে যায়। সকাল ৯টায় ওর কাছে আসি। আর রাত ১০টায় চলে যাই। ওর সাথে কথা বলি। এভাবেই কাটছে কানাডার সময়।

আপনি গানের মানুষ, বাংলাদেশ ছাড়াও বিশ্বের যেখানেই বাঙালি আছেন এক নামে চেনেন? এখন কি গান সেভাবে করতে পারছেন?

কুমার বিশ্বজিৎ: গানের প্রস্তাব আসে অনেক। সেভাবে করতে পারি না। কেননা, ঢাকা থেকে ওয়ার্ক পারমিট নিয়ে গান করতে হয় কোথাও কোথাও। এটা সব সময় সম্ভব হয়ে ওঠে না। কারণ, নিবিড়ের জন্য মনটা ওর কাছেই পড়ে থাকে। সব সময় মন একরকম থাকে না। তারপরও কানাডায় আসার পর অস্ট্রেলিয়ায় শো করেছি। আমেরিকায় করেছি। ১৪ ফেব্রুয়ারি একটি শো করব টরন্টোতে। তবে, প্রচুর শো বাতিল করতে হয়েছে।

দর্শক কিংবা শ্রোতাদের বিষয়ে কী বলবেন?

কুমার বিশ্বজিৎ: আমার ধারণা ছিল, কী এমন গান করেছি যার জন্য মানুষ মনে রাখবে, ভালোবাসবে? কিন্তু, এখন দেখছি দর্শকরাও আমার পরিবার। তারা অনেক আশীর্বাদ করছেন। অনেক ভালোবাসা দেখিয়েছেন। দোয়া করেছেন। তাদের এই ভালোবাসার কথা কখনোই ভুলতে পারব না। গান গেয়েই তাদের মন জয় করেছি।

এখন গান নিয়ে পরিকল্পনা?

কুমার বিশ্বজিৎ: নিজে যদি প্রফুল্ল না থাকি কিংবা ভালো না থাকি তাহলে গানটা হয় না। গান ভেতর থেকে আসে। তারপরও যতদিন নিশ্বাস আছে ততদিন গান করে যাব। কিছু পরিকল্পনা তো আছেই। বড় ইচ্ছে আছে চার দশকের গানের সেলিব্রেশন করতে চাই। আমার গানে যাদের অবদান আছে তাদের স্মরণ করে কিছু করতে চাই। তাদের ভালোবাসা নিবেদন করতে চাই।

আপনার কিছু কিছু গান মানুষের মুখে মুখে ফেরে…

কুমার বিশ্বজিৎ: এটা মানুষের ভালোবাসায় সম্ভব হয়েছে। আমি চেষ্টা করেছি। গেয়ে গেছি। আমাদের সময়ের গানগুলো নতুন প্রজন্মও শুনছেন। কিছু কিছু সাড়া জাগানো গান আপ করা হচ্ছে নতুন প্রজন্মের জন্য। তারা সেসব গান শুনছেন। এভাবে একটি আর্কাইভ করতে চাই। গানগুলো থাকুক।

Read more

Local News