Wednesday, February 18, 2026

তেলের দাম কারসাজি: এস আলমকে ৪২ কোটি ৮৪ লাখ টাকা জরিমানা

Share

২০২২ সালে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানো, সরবরাহ সীমিত রাখা এবং ডিলার ও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগসাজশ করে বাজার নিয়ন্ত্রণের অভিযোগে এস আলম সুপার এডিবল অয়েল লিমিটেডকে ৪২ কোটি ৮৪ লাখ টাকা জরিমানা করেছে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন (বিসিসি)।

আজ রোববার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় বিসিসি।

এতে বলা হয়, ২০২২ সালের ৫ মে ব্যবসায়ীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার লিটারপ্রতি ভোজ্যতেলের দাম ৩৮ টাকা বাড়ায়। তবে দাম বাড়লেও সরবরাহ সংকট না কাটায় চরম ভোগান্তির শিকার হন ভোক্তারা। ওই বছরই ভোজ্যতেলের আমদানি, উৎপাদন ও মূল্য নির্ধারণ প্রক্রিয়া নিয়ে তদন্ত শুরু করে বিসিসি এবং প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ৩ ফেব্রুয়ারি এ বিষয়ে চূড়ান্ত আদেশ জারি করে কমিশন। আদেশে বলা হয়, এস আলম সুপার এডিবল অয়েল কোম্পানি ২০১২ সালের ‘প্রতিযোগিতা আইন’ লঙ্ঘন করেছে। প্রতিষ্ঠানটি উৎপাদন কমিয়ে এবং পরিবেশক ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে বাজার নিয়ন্ত্রণ করেছে। এর মাধ্যমে প্রতিযোগিতা আইনের ১৫ ধারার উপধারা (১) এবং উপধারা (২)-এর (ক) ও (খ) লঙ্ঘন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। ওই আইন অনুযায়ী, প্রতিযোগিতাবিরোধী চুক্তি, একচেটিয়া বা অল্পসংখ্যক প্রতিষ্ঠানের প্রাধান্য সৃষ্টি, অস্বাভাবিক মূল্য নির্ধারণ এবং উৎপাদন ও সরবরাহ সীমিত করার মতো কার্যক্রম নিষিদ্ধ।

এ বিষয়ে বিসিসির সদস্য আফরোজা বিলকিস দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, পূর্ণাঙ্গ রায় পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে এস আলম সুপার এডিবল অয়েল লিমিটেডকে জরিমানার অর্থ পরিশোধ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, রায়ের সঙ্গে একমত না হলে একই সময়সীমার মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি কমিশনে রিভিউ আবেদন বা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে আপিল করতে পারবে।

আফরোজা বিলকিস বলেন, নির্ধারিত সময়ে জরিমানা পরিশোধ, রিভিউ বা আপিল না করলে তা আদেশ অমান্য হিসেবে গণ্য হবে। সে ক্ষেত্রে কমিশন প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলাসহ আইনি ব্যবস্থা নিতে পারবে।

এস আলম সুপার এডিবল অয়েল লিমিটেড প্রতিষ্ঠানটির মালিক মোহাম্মদ সাইফুল আলম। তার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ পাচারের অভিযোগ রয়েছে ।

এ বিষয়ে জানতে এস আলম গ্রুপের সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার কাজী সালাহউদ্দিন আহমেদ ও ফাইন্যান্সের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর সুব্রত কুমার ভৌমিকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে ডেইলি স্টার। তবে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

Read more

Local News