Wednesday, May 20, 2026

এনএসইউ’র ট্রাস্টি শাহজাহানের বিরুদ্ধে এবার ভর্তি বাণিজ্য ও দুর্নীতির তদন্ত

Share

ভর্তি বাণিজ্য, স্কলারশিপে অনিয়ম ও আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (এনএসইউ) ট্রাস্টি মো. শাহজাহানের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। গত ১৪ মে প্রেরিত এক চিঠিতে কমিশন এই নির্দেশ দেয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের অর্থের বিনিময়ে ভর্তি এবং প্রকৃত মেধাবীদের বঞ্চিত করে স্কলারশিপ বাণিজ্যে লিপ্ত একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট শাহজাহান পরিচালনা করছেন।

অভিযোগে আরও জানানো হয়েছে, এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ক্যাম্পাস ডেভেলপমেন্ট কমিটির (সিডিসি) চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালকালে শাহজাহান উন্নয়ন প্রকল্পের তহবিল তছরুপ করেছেন। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষর জাল মামলার এক আসামিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন কাজে জড়িত করার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

ইউজিসির পরিচালক ড. মো. সুলতান মাহমুদ ভূইয়া স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, গত ২১ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে কমিশনে প্রাপ্ত এক অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ‘যৌন হয়রানির দায়ে অভিযুক্ত এনএসইউ বোর্ড অব ট্রাস্টিজের দুর্নীতিবাজ সদস্য মো. শাহজাহানের কালো থাবা হতে বিশ্ববিদ্যালয়কে রক্ষার মাধ্যমে দুর্নীতি ও যৌন নিপীড়নমুক্ত উপযুক্ত পরিবেশ ফিরিয়ে আনা’ শীর্ষক ওই আবেদনের অভিযোগসমূহ তদন্ত করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কমিশনকে অবহিত করতে বলা হয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অভিভাবক ইউজিসি বরাবর এই লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে মো. শাহজাহানের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী কর্মকর্তা, কর্মচারী ও ছাত্রীদের ভয়ভীতি ও প্রলোভনের মাধ্যমে যৌন হয়রানি, নিয়মবহির্ভূত নিয়োগ, পদোন্নতি এবং আর্থিক অনিয়মের বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ সালের মে মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ল্যাব ইনস্ট্রাক্টর ট্রাস্টি শাহজাহানের গাড়িতে শ্লীলতাহানির শিকার হন। পরবর্তীতে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো ওই নারীর বেতন এক লাফে ৬০ হাজার টাকা বাড়িয়ে দেওয়া হয়। এছাড়া আদিবা ইবনাত বুশরা নামের একজনকে সিপিসি বিভাগে নিয়োগ এবং এমবিএ কোর্সে শতভাগ ওয়েভার দেওয়ার পেছনেও শাহজাহানের ব্যক্তিগত সম্পর্কের প্রভাব রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। একইভাবে প্রিয়াঙ্কা ও সুস্মিতা হালদার নামের দুই কর্মীকে নিয়মবহির্ভূতভাবে বদলি ও পদোন্নতি দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, মো. শাহজাহান গত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ক্যাম্পাস ডেভেলপমেন্ট কমিটির (সিডিসি) চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে পছন্দের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিল তছরুপ করেছেন। বিশেষ করে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষর জালের মামলায় চার্জশিটভুক্ত আসামি তরিকুলের মাধ্যমে উন্নয়ন কাজে কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের ১ থেকে ২ লাখ টাকার বিনিময়ে ভর্তি করানো এবং প্রকৃত মেধাবীদের বঞ্চিত করে স্কলারশিপ বাণিজ্যের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট তিনি পরিচালনা করছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগকারী অভিভাবক তার চিঠিতে উল্লেখ করেছেন, ট্রাস্টি শাহজাহানের ক্ষমতার প্রভাবে ভুক্তভোগীরা মুখ খুলতে সাহস পান না। এমনকি ইতিপূর্বে সাবেক এক নারী শিক্ষকের দেওয়া যৌন হয়রানির অভিযোগও অদৃশ্য ইশারায় ধামাচাপা দেওয়া হয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ে কার্যকর কোনো যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি না থাকাকে এই পরিস্থিতির অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

ইউজিসি পরিচালক স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে এই বহুমাত্রিক দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করে দ্রুত রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। এই তদন্তের ফলাফলের ওপর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক সুশাসন অনেকাংশেই নির্ভর করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Read more

Local News