বর্তমান সময়ে সাইবার নিরাপত্তা একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক ইস্যু। ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা প্রায়ই তাদের ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা নিয়ে উদ্বেগে থাকেন।
কিছুদিন পর পরই পত্রিকার শিরোনামে সাইবার অপরাধের খবর আসে। উন্নত দেশগুলোতেও সাইবার অপরাধের বলি হয়ে লাখো ইউজারের তথ্য বেহাত, আর্থিক ক্ষতিসহ নানা দুর্ভোগের কথা জানা যায়।
এরকম পরিস্থিতিতে সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় সচেতনতা বাড়ানো ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এ বিষয়ে সময়োপযোগী জ্ঞান অর্জনের লক্ষ্যে সারাদেশের অধিভুক্ত কলেজগুলোতে সাইবার নিরাপত্তা ক্লাব গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ।
আজ রোববার লালমাটিয়া সরকারি মহিলা কলেজে সাইবার সিকিউরিটি বিষয়ক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।
এ সময় তিনি কলেজটির সাইবার নিরাপত্তা ক্লাব উদ্বোধন করেন।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ফরেনসিক সায়েন্স অ্যান্ড সাইবার সিকিউরিটির উদ্যোগে আয়োজিত ‘স্টেইং সেফ অনলাইন: প্রোটেক্ট ইওরসেলফ ফ্রম সাইবারক্রাইমস’ সেমিনারে ভিসি বলেন, ‘বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে সাইবার অপরাধও বহুমাত্রিক রূপ ধারণ করেছে।
অনলাইন প্রতারণা, তথ্য চুরি, পরিচয় জালিয়াতি, আর্থিক প্রতারণা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার ব্যক্তি ও সমাজের জন্য নতুন ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। তাই প্রযুক্তির ব্যবহার যত বাড়ছে, সাইবার সচেতনতার প্রয়োজনীয়তাও তত বেশি বাড়ছে।’
‘একটি দেশের ডিজিটাল অগ্রগতি তখনই অর্থবহ হয়, যখন নাগরিকরা নিরাপদ ও দায়িত্বশীলভাবে প্রযুক্তি ব্যবহার করতে সক্ষম হন। বিশেষ করে তরুণ শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি সাইবার নৈতিকতা, তথ্যের নিরাপত্তা এবং ডিজিটাল আচরণবিধি সম্পর্কে সম্যক ধারণা থাকা জরুরি। সচেতনতার অভাবেই অধিকাংশ মানুষ সাইবার অপরাধের শিকার হন’, যোগ করেন তিনি।
ড. এ এস এম আমানুল্লাহ আরও বলেন, ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত সাইবার সচেতনতামূলক সেমিনার, কর্মশালা ও প্রশিক্ষণের আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। প্রযুক্তির সুফল পুরোপুরি কাজে লাগাতে সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই।’
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘অনলাইনে ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করার আগে সতর্ক থাকতে হবে, অচেনা লিংক বা বার্তায় সাড়া দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে, শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার এবং দ্বি-স্তরবিশিষ্ট নিরাপত্তা (টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন) নিশ্চিত করতে হবে। একটি সচেতন প্রজন্মই সাইবার অপরাধমুক্ত ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।’
লালমাটিয়া সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক সুলতানা মাহমুদা ইয়াসমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মোল্লা মাহফুজ আল-হোসেন।
সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতামূলক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাইবার সিকিউরিটি বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা এবং বাংলাদেশ পুলিশ স্টাফ কলেজের পরিচালক (প্রশিক্ষণ) মো. মাহবুবুল আলম (পিপিএম)।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ফরেনসিক সায়েন্স অ্যান্ড সাইবার সিকিউরিটির প্রধান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বিন কাশেম।
সেমিনারের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন সাইবার সিকিউরিটি ক্লাবের সভাপতি মো. মহিবুল হাসান এবং সম্পাদক মো. দেলোয়ার হোসেন সামী।

