অংশীজনদের সঙ্গে পরামর্শের মাধ্যমে স্পিনিংখাতের সমস্যাগুলো সমাধানে সরকারের আশ্বাস পেয়ে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে মিল বন্ধ রাখার কর্মসূচি সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)।
এর আগে, গত ২২ জানুয়ারি এক সংবাদ সম্মেলনে বিটিএমএর নেতারা ঘোষণা দিয়েছিলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাদের দাবি পূরণ না হলে ১ ফেব্রুয়ারি থেকে স্পিনিং মিল বন্ধ রাখা হবে।
মিলমালিকরা দাবি জানান, ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের সুতা শুল্কমুক্ত আমদানির সুবিধা প্রত্যাহারে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব বাস্তবায়ন করতে হবে। কারণ, সস্তা ভারতীয় সুতা দেশীয় এই খাতকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
বিটিএমএ নেতারা ভারত থেকে সুতা আমদানির বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারের জন্য বারবার সরকারের প্রতি আহ্বান জানালেও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এখনো বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব বাস্তবায়ন করেনি।
বিটিএমএ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তৈরি পোশাক ও বস্ত্র খাত, বিশেষ করে স্পিনিং শিল্প যেসব চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন তা পর্যালোচনার জন্য ২০২৬ সালের ২৭ জানুয়ারি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনের সভাপতিত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বাণিজ্য উপদেষ্টা শিল্পখাতের অংশীজনদের উদ্বেগগুলোর যৌক্তিকতা স্বীকার করেন এবং বাংলাদেশের রপ্তানি প্রতিযোগিতা সক্ষমতায় স্পিনিংখাতের কৌশলগত গুরুত্ব তুলে ধরেন।
তিনি বিদ্যমান আর্থিক ও নিয়ন্ত্রক কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আইনসম্মত ও ন্যায্য নীতিগত ব্যবস্থার মাধ্যমে সমস্যাগুলো সমাধানে দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে এনবিআর চেয়ারম্যান, বাণিজ্য সচিব, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের প্রতিনিধি এবং অর্থ বিভাগের প্রতিনিধিসহ ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া বিটিএমএ, বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।
বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশে স্পিনিংখাতের চলমান সংকট নিরসনে যথাযথ ও সময়োপযোগী নীতিনিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সমাধানের লক্ষ্যে আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি এ বছর অর্থ বিভাগে সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনকে নিয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হবে।

